বাংলা ব্যাকরণ ও গণিতের যুক্তিবিদ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো খোলা বাক্য কাকে বলে— এই প্রশ্নটি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ও প্রাত্যহিক শিক্ষায় প্রায়ই সামনে আসে। সাধারণভাবে, খোলা বাক্য বলতে এমন বাক্যকে বোঝায় যার সত্য-মিথ্যা মান নির্ধারণ করা যায় না, যতক্ষণ না বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত চলক বা অজানা রাশির মান নির্দিষ্ট করা হয়। এই কারণেই খোলা বাক্যকে সম্পূর্ণ বক্তব্য বলা যায় না।
খোলা বাক্যে সাধারণত এক বা একাধিক চলক থাকে, যেমন x, y ইত্যাদি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, “x + 5 = 10” একটি খোলা বাক্য। এখানে x-এর মান নির্ধারিত না থাকায় আমরা বলতে পারি না যে বাক্যটি সত্য না মিথ্যা। কিন্তু যদি বলা হয় x = 5, তখন বাক্যটি সত্য হয়। অর্থাৎ, চলকের মান নির্ধারণের সঙ্গে সঙ্গেই খোলা বাক্য একটি নির্দিষ্ট সত্য-মিথ্যা মান লাভ করে।
বাংলা ব্যাকরণে খোলা বাক্যের ধারণা যুক্তিবিদ্যা ও গণিতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এটি সাধারণ বাক্যের মতো শোনালেও এর মধ্যে অসম্পূর্ণতা থাকে। সাধারণ বা বন্ধ বাক্যে যেখানে বক্তব্য সম্পূর্ণ হয়, সেখানে খোলা বাক্যে তথ্য অসম্পূর্ণ থাকে। তাই খোলা বাক্যকে অনেক সময় শর্তাধীন বাক্যও বলা হয়।
শিক্ষাক্ষেত্রে খোলা বাক্যের গুরুত্ব অনেক। গণিত, বীজগণিত ও যুক্তিবিদ্যার সমস্যায় শিক্ষার্থীদের প্রথমে খোলা বাক্য বুঝতে হয়, তারপর চলকের মান বসিয়ে সমাধানে পৌঁছাতে হয়। এতে বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও যৌক্তিক চিন্তাভাবনা গড়ে ওঠে। পাশাপাশি, খোলা বাক্য শিক্ষার্থীদের শেখায় কীভাবে তথ্য অসম্পূর্ণ থাকলে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখতে হয়।