ইসলামী সমাজে একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ, বিদায় ও দোয়ার ক্ষেত্রে কিছু সুন্দর শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করার রীতি আছে, যা সম্পর্ককে আরও সৌহার্দ্যপূর্ণ করে তোলে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাক্য হলো ফি আমানিল্লাহ কখন বলতে হয়—এই প্রশ্নটি অনেকের মনে আসে, বিশেষ করে যারা ইসলামী আদব-কায়দা অনুসরণ করতে চান। সাধারণভাবে বলা যায়, “ফি আমানিল্লাহ” শব্দগুচ্ছটি বিদায়ের সময় বলা হয়, যার অর্থ হলো “তোমাকে আল্লাহর আমানতে রেখে দিলাম।”
এই বাক্যটি বলার মাধ্যমে একজন মুসলিম অপরজনের জন্য দোয়া করেন, যেন আল্লাহ তাআলা তাকে হেফাজতে রাখেন। যখন কেউ দূরে কোথাও যাচ্ছেন, সফরে বের হচ্ছেন, কিংবা দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদায় নিচ্ছেন, তখন এই বাক্যটি বলা অত্যন্ত অর্থবহ। এটি শুধু একটি সৌজন্যমূলক বিদায় নয়, বরং এর ভেতরে রয়েছে নিরাপত্তা, কল্যাণ ও রহমতের দোয়া। তাই পরিবারের সদস্য, বন্ধু, সহকর্মী কিংবা প্রিয়জন—যেই হোক না কেন—যখন বিদায়ের মুহূর্ত আসে, তখন “ফি আমানিল্লাহ” বলা অত্যন্ত সুন্দর একটি আমল।
অনেকেই মনে করেন, শুধু ধর্মীয় পরিবেশেই এই বাক্যটি ব্যবহার করা উচিত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, দৈনন্দিন জীবনেও এর ব্যবহার খুবই প্রাসঙ্গিক। কেউ অফিস থেকে অন্য শহরে বদলি হলে, কেউ হজ বা ওমরাহতে গেলে, এমনকি সাধারণ ভ্রমণের সময়ও এই দোয়ামূলক বিদায় বলা যেতে পারে। এতে সম্পর্কের মধ্যে আন্তরিকতা বাড়ে এবং ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটে।